Saturday, 12 August 2017

।।৬৭।। ডিজিটাল পীর




।।৬৭।। ডিজিটাল পীর

হাবলুর এক বন্ধু কিসলু হাপুস-হুপুস প্রেমে পড়েছে। মেয়েটির নাম টুনটুনি। কিন্তু সে টুনটুনিকে যেয়ে কোনভাবেই তা জানাতে পারছে না। হাবলু বেচারার অবস্থা দেখে তাকে পীর বাবার দরবারে যাওয়ার পরামর্শ দিল।

দিনকয়েক গড়িমসি করে কিসলু পীর বাবার দরবারে হাজির হল। আধুনিক জমানার পীর। কিসলুর সব সমস্যার বিবরণ শুনে তাকে একটি পাথর দিলেন। পাথরের নাম “টাচ এন্ড ফলো”। বললেন, “তোমার মনের মানুষটিকে এই পাথর দিয়ে একবার স্পর্শ করতে পারলেই সে তোমাকে ফলো করতে থাকবে।” কিসলু পীর বাবার কথা শুনে খুবই খুশী। একবার শুধু পাথর ছোঁয়ানো? এ আর তেমন কঠিন কি কাজ?

পীর বাবা পাথরের বিনিময়ে এক মাসের ইন্টারনেট ডাটার খরচ দাবী করলেন। কিসলু খুশী মনে তা দিয়ে “টাচ এন্ড ফলো” পাথর নিয়ে দৌড় দিল।
 
পরের দিন কিসলুর সঙ্গে টুনটুনির পথে দেখা। কিসলু একটু মুচকি হেসে তার দিকে এগিয়ে গেল এবং আচমকা তার হাতে “টাচ এন্ড ফলো” পাথর স্পর্শ করেই দিল ছুট। টুনটুনি অবাক হলেও ভাবল হয়তো দুষ্টুমি করে কিসলু এমন করেছে। কিন্তু কিসলু যা ভেবেছিল, তা হল না। টুনটুনি তাকে কিছু বললও না, ফলোও করল না। বরং কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলতে বলতে চলে গেল।

কিসলু মহাবিরক্ত। পীর বাবার পেছনে একমাসের ইন্টারনেট ডাটা বেহুদা খরচ করার জন্য তার খুবই আফসোস হল। কিন্তু বাসায় ফিরে ফোন চেক করতে গিয়ে একটু অবাক হল। তার ফোনে নয়টি নোটিফিকেশন। টুনটুনি তাকে টুইটার, ইনসটাগ্রাম,ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ, লাইন, উই চ্যাট, পিন্টারেস্টে ফলো করছে এবং ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে।

কিসলু মনের আনন্দে এবার পীর বাবাকে ফোন করল। পীর বাবা বললেন,“বুঝতে হবে বৎস। এখন ডিজিটাল যুগ। সবকিছু আপগ্রেড করা হয়েছে। রুরাল ভিলেজের কথা ভুলে যাও; গ্লোবাল ভিলেজে আস।এজন্য আমি তোমার কাছে লাল মোরগ, মশার মগজ, শকুনের চোখ, সাপের তেল আর সোয়া তিন কিলো কালো জিরা চাউল না চেয়ে, মাত্র একমাসের ইন্টারনেট ডাটা চেয়েছি।”  

No comments:

Post a Comment